Section 20 Civil Procedure Code Explained
ধারা 20 দেওয়ানী কার্যবিধি আইন বিশ্লেষণ
দেওয়ানী কার্যবিধি আইন ধারা ২০ - যেইখানে বিবাদী গন বাস করে বা নালিশের কারণ উদ্ভূত হয় সেখানেই অপরাপর মামলাগুলো রুজুকরণ
দেওয়ানী কার্যবিধি আইন ধারা ২০ এর ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধি আইন ধারা ২০ এর উদাহরণসমূহ
দেওয়ানী কার্যবিধি আইন ২০ ধারার বিশ্লেষণ
ধারা ১৫ থেকে ১৭ তে কোন প্রকৃতির মােকদ্দমা কোন্ কোন এলাকায় এবং শ্রেণীর আদালতে রুজু করতে হবে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
১৫ ধারায় আর্থিক এখতিয়ারের কথা বলা হয়েছে ও ১৬ ধারায় স্থানিয় এখতিয়ারের কথা বলা হয়েছে। এই সকল ধারায় বর্ণিত মােকদ্দমা ছাড়া অন্য প্রকার মােকদ্দমা কোন এলাকার আদালতে দাখিল করতে হবে তা এই ধারায় বলা হয়েছে। এই সকল মােকদ্দমা এমন আদালতে রুজু করতে হবে, যে আদালতের আঞ্চলিক সীমারেখার ভিতর-
(ক) বিবাদী বা একাধিক বিবাদী থাকলে, তাদের প্রত্যেক মােকদ্দমা রুজু করার সময় বসবাস করে বা লাভজনক কাজ করে; বা
(খ) একাধিক বিবাদী থাকলে তাদের মধ্যে যেকোন একজন মােকদ্দমা রুজুর সময় বসবাস করে ব্যবসা করে বা লাভজনক কাজ করে।
তবে এরূপ ক্ষেত্রে আদালতের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে, বা যে সকল বিবাদী এলাকার বাহিরে বাস করে তাদের মােকদ্দমা রুজুর ব্যাপারে সম্মতি থাকতে হবে; বা মােকদ্দমার কারণ সম্পূর্ণরূপে বা আংশিকঃ উদ্ভব হতে হবে।
বিবাদীর বসবাস
বাংলাদেশের বাইরে নালিশের কারণ উদ্ভব হলেও বিবাদী যদি বাংলাদেশে বসবাস করে তা হলে সেই বিবাদীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে মােকদ্দমা করা যায়। ইংল্যান্ডে ফার্ম গঠন করে ও সেখানে ববসা পরিচালনা করে পরবর্তী একজন অংশীদার বাংলাদেশে আসেন। ফার্ম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মােকদ্দমা করা যায় ।
২০ ধারায় ব্যবসা বলতে কি বুঝায়
এই ধারায় ব্যবসা অভিব্যক্তিটি সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। মাজারের খাদেমকে ব্যবসায়ী বলা যায় না। জমিদারি ব্যবসাকেও ব্যবসা বলা যায় না। সরকার যদি ব্যবসায়ে লিপ্ত থাকে তবে তাকেও ধারা মােতাবেক ব্যবসায়ী বলা যায় না। তবে ব্যবসায়ী হতে হলে তার যে একটি অফিস থাকতে হবে এমন কোন কথা নাই। নিজে উপস্থিত না থেকেও কেবলমাত্র এজেন্ট দ্বারা ব্যবসা পরিচালনা করা যায় ও ঐ ব্যক্তিকে ব্যবসায়ী ধরা হয় ।
নালিশের কারণ বলতে কি বুঝায়
নালিশের কারণ বলতে সে সকল তথ্য বুঝায় যা বাদী তার দাবি প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রমাণ করতে বাধ্য। বিবাদী কি বলল তা নালিশের কারণ নয়।
২০ ধারার মূলনীতি
অত্র ধারার উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে সুষ্ঠু বিচার যতদূর সম্ভব জনগণের নৈকট্যে আনা যায় এবং বিবাদীদের যাতে অর্থহীন আসা-যাওয়া এবং ব্যায়াদি ব্যতীত অপেক্ষাকৃত সহজেই তার আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযােগ লাভ করতে পারে।
বিবাদীর একাধিক বাসস্থল থাকলে করনীয়
একজন মানুষ একই সময়ে একাধিক নিবাসে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে । কখনাে এইখানে কখনাে সেইখানে এরূপ অবস্থাতে দুইটি নিবাসকেই বিবাদীর আবাসস্থল গণ্য করা যাবে। তবে, এক্ষেত্রে বিবাদীর দুইটি নিবাসেই বাস করার ইচ্ছা ছিল কিনা তা প্রমাণ করতে হবে। এই ইচ্ছার অনুপস্থিতিতে সে এক স্থানে বাস করলে অন্য স্থানেও বাস করে বলে ধরা যাবে না।
বাসস্থানহীন ব্যক্তি
কোন ব্যক্তির স্থায়ী বাসস্থান না থাকলে সে যখন যেখানে বসবাস করে সেই জায়গার আদালতেই সংশ্লিষ্ট মােকদ্দমা করতে পারে। যেমন, একজন অফিসার বার্মা হতে লন্ডন যাত্রা করল ও ইহার কোন জায়গাতেই তার বাড়ি নাই। পথিমধ্যে সে মাদ্রাজ কয়েকদিন যাত্রা বিরতি করল। সিদ্ধান্ত এই যে, মাদ্রাজকেই অফিসারের বাসস্থল ধরতে হবে।
কারাবদ্ধ ব্যক্তি
একজন কারাবরণকারী যদিও প্রকৃতপক্ষে কারাবাসে বসবাস করছে তথাপিও ইহাকে তার বাসস্থান বলা যায় না। বরং তার পারিবারিক অন্যান্য সদস্যরা সেইখানে থাকে উহার সন্নিকটস্থ আদালতেরই মােকদ্দমা গ্রহণ করার ক্ষমতা রয়েছে।
মােকদ্দমার কারণ
মােকদ্দমার কারণ বলতে যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদীকে মামলার বর্ণনা করতে হয়, এবং মােকদ্দমার সফলতার জন্য যা প্রমাণ করা প্রয়ােজন, তাকে বুঝায়। অন্য কথায়, মােকদ্দমার এমন প্রত্যেকটি প্রকৃত ঘটনা, যেগুলাের প্রতিবাদ করা হলে বাদীকে আদালতের রায়ে তার অধিকারকে সমর্থন করার জন্য প্রমাণ করতে হয়। প্রত্যেকটি বিষয় যা প্রমাণিত না হলে বিবাদী অবিলম্বে রায় পাওয়ার অধিকারি হয় সেগুলি মােকদ্দমার কারণে নালিশের কারণ বলতে একটি অতি অপরিহার্য তথ্যকে বুঝায় যা বাদীকে তার মােকদ্দমার সফল হওয়ার পূর্বে প্রমাণ করা প্রয়ােজন।
একজন বিদেশির বিরুদ্ধে আদালতের এখতিয়ার
অপরাপর সমস্ত শর্তগুলাে পূরণ করা হলে এই ধারার বিধানাবলিতে একজন বিদেশির বিরুদ্ধে মােকদ্দমা করার বেলায় কোন বতিক্রম সাধিত হয় নাই। একজন বিদেশির মােকদ্দমার কারণসমূহ যদি কোন আদালতে স্থানীয় সীমানার ভিতর উদ্ভব হয় ও সে যদি আদালতের এখতিয়ারের ভিতর বসবাস করে তবে আদালত উক্ত মােকদ্দমা বিচার করতে বাধ্য থাকবেন।