আদেশ ৩৫ স্বার্থবিহীন ব্যবহার বা ইন্টারপ্লিডার মামলা

0

Order 35 Interpleader Suit

আদেশ ৩৫ স্বার্থবিহীন ব্যবহার বা ইন্টারপ্লিডার মামলা

আদেশ ৩৫ বিধি ১ ইন্টারপ্লিডার মামলা বা স্বার্থবিহীন ব্যবহার মামলায় আরজি

প্রত্যেক ইন্টারপ্লিডার মামলা বা স্বার্থবিহীন ব্যবহার মামলায় আরজির জন্য দরকারি অন্যান্য বিবৃতির অতিরিক্ত নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বিবৃত করতে হবে-

ক) বাদী দায় বা খরচাদি ছাড়া বিতর্কিত বিষয়বস্তুতে অপর কোন স্বার্থ দাবি করে না,

খ) বিবাদীগণ দ্বারা দাবিগুলাে স্বতন্ত্রভাবে প্রণীত হয়েছে, এবং

গ) বাদী ও বিবাদীগণের ভিতর কোন রূপ যােগ-সাজস নাই বলে আরজিতে বিবৃত থাকবে।

আদেশ ৩৫ বিধি ২ দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদান

যেক্ষেত্রে দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদানের বা আদালতের হেফাজতে রাখিবার যােগ্য হয়, সেক্ষেত্রে মামলায় বাদী কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার আগে বাদীকে তা অনুরূপভাবে প্রদান করতে বা স্থাপন করতে তলব করা যেতে পারে।

আদেশ ৩৫ বিধি ৩ বাদীর বিরুদ্ধে বিবাদী মামলা করলে কর্মধারা

যেক্ষেত্রে কোন স্বার্থবিহীন ব্যবহার মামলায় কোন একজন বিবাদী উক্ত মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বস্তুতঃ বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করে, সেক্ষেত্রে যে আদালতে বাদীর বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন আছে, স্বার্থবিহীন ব্যবহার মামলা যে আদালতে রুজু করা হয়েছে, সে আদালত দ্বারা বর্ণিত আদালতে বিষয়টি অবগত হয়ে, তার বিরুদ্ধে মামলার কর্মধারা স্থগিত রাখিবে এবং স্থগিত মামলায় তার যে খরচাদি হয়েছে, অনুরূপ মামলায় তা অন্তর্ভূক্ত করা যাবে; কিন্তু যদি এবং যতদূর তা ঐ মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, স্বার্থবিহীন ব্যবহার মামলায় তার যে খরচাদি হয়েছে, তাতে যােগ করা যাবে।

আদেশ ৩৫ বিধি ৪ প্রথম শুনানীতে পদ্ধতি

১) প্রথম শুনানীতে আদালত

ক) দাবিকৃত বস্তু সম্পর্কে বিবাদীদের প্রতি সব দায় হতে বাদী মুক্ত, তাকে তার মামলার খরচাদি প্রদান এবং তাকে মামলা হতে খারিজ করা সম্পর্কে ঘােষণা প্রদান করে; অথবা

খ) যদি আদালত ন্যায় বিচার বা সুবিধার্থে দরকার মনে করে, তবে সব পক্ষকে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি সামিল রাখিতে পারে।

২) যেক্ষেত্রে পক্ষদের স্বীকৃতি বা অন্যান্য সাক্ষ্য আদালতকে দাবিকৃত বস্তুর স্বত্ব সম্পর্কে রায় দিতে সমর্থ করে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, সেক্ষেত্রে আদালত তা সম্পর্কে বিচার করতে পারে।

৩) যেক্ষেত্রে পক্ষদের স্বীকৃতিতে আদালতকে ঐরূপ বিচার করতে সমর্থ করে না সেক্ষেত্রে আদালত নির্দেশ দিতে পারে-

ক) সেই পক্ষদের ভিতর একটি বিচার্য বিষয় গঠন করা ও বিচার করা হােক এবং

খ) যে কোন দাবিদারকে মূল বাদীর পরিবর্তে বা তার অতিরিক্ত হিসেবে বাদীর শ্রেণিভুক্ত করা হােক,

এবং আদালত সাধারণ পদ্ধতিতে মামলার বিচারে অগ্রসর হবে।

আদেশ ৩৫ বিধি ৫ এজেন্ট প্রজাগণ ইন্টারপ্লিডার মামলা বা স্বার্থ বিহীন ব্যবহার মামলা করতে পারে না

এই আদেশের কোন বিধানই প্রতিনিধিগণকে তাদের প্রধান লােকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে বা প্রজাগণকে তাদের ভূস্বামীর বিরুদ্ধে উক্ত প্রধান লােক বা ভূস্বামীগণের দ্বারা দাবিদার লােকগণ ছাড়া অপর কারাে সঙ্গে ইন্টারপ্লিডার মামলা বা স্বার্থবিহীন ব্যবহার মামলা করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সমর্থ করতে গণ্য হবে না।

এজেন্ট প্রজাগণ ইন্টারপ্লিডার মামলা বা স্বার্থ বিহীন ব্যবহার মামলা করতে পারে না তার উদাহরণগুলাে

ক) 'ক' তাহর এজেন্ট ‘খ-এর কাছে এক বাক্স সােনার গহনা জমা দেয়। ‘গ'-অভিযােগ করে যে ক'-তার কাছে হতে অন্যায়ভাবে সােনার গহনাগুলি লাভ করেছে এবং ‘খ’-এর কাছে হতে সে তা দাবি করে। খ', 'ক' এবং ‘গ'-এর বিরুদ্ধে স্বার্থবিহীন ব্যবহার মামলা করতে পারে না।

খ) ‘ক’ এক বাক্স সােনার গহনা ‘খ’-এর কাছে তার এজেন্ট হিসেবে জমা রাখে। সে তখন ‘গ’-এর কাছে তার নিজস্ব ঋণের জামিন স্বরূপ উক্ত সােনার গহনাগুলিকে জামানত হিসেবে রাখিতে পত্র লিখে। পরে ‘ক' অভিযােগে বলে যে, ‘গ'-এর ঋণ মিটানাে হয়েছে, এবং ‘গ' অভিযােগে বিপরীত কথা বলে। উভয়ে ‘খ'-এর কাছে হতে তা দাবি করে। 'খ', 'ক' এবং ‘গ'-এর বিরুদ্ধে স্বার্থবিহীন ব্যবহার মামলায় রুজু করতে পারেন।

আদেশ ৩৫ বিধি ৬ বাদীর খরচাদির জন্য দায়

যেক্ষেত্রে মামলা সঠিকভাবে রুজু করা হয়েছে সেক্ষেত্রে আদালত মূল বাদীকে তার দাবিকৃত বস্তুটির উপর দায় আরােপ করে বা অপর কোন কর্মকরী পন্থায় মামলার খরচাদির ব্যবস্থা করতে পারে।




Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default