- Get link
- X
- Other Apps
বার কাউন্সিল ও জুডিশিয়াল সার্ভিস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি - পর্ব ১২
রায় ও দণ্ড (Judgment & Sentence) সংক্রান্ত:
ফরিয়াদী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি (Complainant & Victim) সংক্রান্ত:
একজন ব্যক্তি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে। তার প্রতিকার কি?
একটি ধর্ষণ মামলার ক্ষতিগ্রস্ত একজন শিশু। বিচার চলাকালীন তার গোপনীয়তা কিভাবে রক্ষা করা হবে?
যদি কোনও ব্যক্তি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে, তবে সে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। এই সমস্যার সমাধান এবং ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে শিশুর গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
থানায় অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে প্রতিকার (ধারা ১৫৪)
যদি কোনো পুলিশ অফিসার কোনো আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable Offence) সম্পর্কে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে, তাহলে ফরিয়াদী বা অভিযোগকারী হিসেবে আপনার নিম্নলিখিত প্রতিকারগুলো আছে:
![]() |
আপনি একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ সুপার (Superintendent of Police) বা কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন |
ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারের কাছে অভিযোগ: প্রথমে আপনি একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ সুপার (Superintendent of Police) বা কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৫৪(৩) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো পুলিশ অফিসার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে, তবে অভিযোগকারী সেই অভিযোগের সারমর্ম লিখিতভাবে বা ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে পাঠাতে পারেন। পুলিশ সুপার যদি অভিযোগটিকে আমলযোগ্য মনে করেন, তবে তিনি নিজে তদন্ত শুরু করতে পারেন অথবা তার অধস্তন কোনো অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন।
আদালতে সরাসরি অভিযোগ (নালিশী মামলা): পুলিশ অভিযোগ না নিলে আপনি সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। একে নালিশী মামলা (Complaint Case) বলা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনে এবং প্রয়োজনে সাক্ষী ও প্রমাণ যাচাই করে মামলাটি আমলে নিতে পারেন।
উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ: গুরুতর ক্ষেত্রে, যদি ওপরের কোনো পদ্ধতি কাজ না করে, তবে আপনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করতে পারেন, যেখানে আদালত পুলিশকে অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।
ধর্ষণ মামলার ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর গোপনীয়তা রক্ষা (ধারা ৩২৭(২)
বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলার বিচার চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর গোপনীয়তা রক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩২৭(২) ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২৭(২) ধারা অনুযায়ী, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা সংক্রান্ত কোনো মামলার বিচার জনসাধারণের উপস্থিতিতে হবে না। অর্থাৎ, এই ধরনের মামলার বিচার ইন-ক্যামেরা (In-camera) বা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, বিশেষ করে শিশুদের, মানসিকভাবে আরও আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা করা এবং তাদের গোপনীয়তা বজায় রাখা।
এই ধারা অনুযায়ী, বিচারকের নির্দেশ ছাড়া শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আদালতে উপস্থিত থাকতে পারে:
* আদালতের কর্মচারীবৃন্দ।
* আদালতের পক্ষ থেকে নিযুক্ত ব্যক্তিরা।
* প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবী।
* মামলার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত ব্যক্তিরা (যেমন সাক্ষী)।
* বিচারক যদি মনে করেন, কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিকের উপস্থিতি মামলার স্বার্থে প্রয়োজন, তবে তিনি অনুমতি দিতে পারেন।
এই ধারাটির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর পরিচয় এবং মামলার সংবেদনশীল বিবরণ যেন জনসাধারণের কাছে প্রকাশ না পায়। এটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ বিচারিক পরিবেশ তৈরি করে এবং তাকে আরও মানসিক চাপ থেকে রক্ষা করে। এটি নারীর ও শিশুর প্রতি সংবেদনশীলতা এবং বিচার ব্যবস্থায় তাদের আস্থা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিধান।